Poribesh O Bigyan Chapter 8 Class 8

মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন-অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান | Poribesh O Bigyan Chapter 8 Class 8

Blinking Buttons WhatsApp Telegram

অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ের ” মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন ” ( Poribesh O Bigyan Chapter 8 ) অধ্যায় থেকে সমস্ত রকম প্রশ্ম ও উত্তর দেওয়া হলো।

(1) খারিফ ফসলের একটি উদাহরণ হল- (a) গম (b) ভুট্টা  (c) ছোলা (d) সরষে।

উত্তর:- ভুট্টা।

(2) ডিম ভুনা প্রতিপালন করা হয় যেখানে, সেটি হল-  (a) সঞ্চয়ী পুকুর  (b) হ্যাচারি (c) পালন পুকুর (d) আতুরে পুকুর।

উত্তর:- আতুরে পুকুর।

(3) মৌমাছিদের জীবনে চারটি দশার সঠিক ক্রমটি হল- (a) ডিম – পিউপা – লার্ভা – পূর্ণাঙ্গ (b) ডিম – লার্ভা – পূর্ণাঙ্গ – পিউপা (c) ডিম – লার্ভা – পিউপা – পূর্ণাঙ্গ (d) ডিম – পূর্ণাঙ্গ – লার্ভা – পিউপা।

উত্তর:- ডিম – লার্ভা – পিউপা – পূর্ণাঙ্গ।

(4) অনেক সময় দুটো চাষের মাঝে ডাল, সয়াবিন জাতীয় উদ্ভিদের চাষ করলে মাটি আবার তার হারিয়ে যাওয়া নাইট্রোজেন যৌগ ফিরে পাই, এই পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত অনুযায়ী কোনটি- (a) ল্যাকটোব্যাসিলাস (b) নাইট্রোসোমোনাস (c) রাইজোবিয়াম (d) নাইট্রোব্যাক্টর।

উত্তর:-  রায়জোবিয়াম।

(5) প্রদত্ত কোনটি অজৈব সারের অত্যাধিক আর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনিত ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়- (a) মাটিতে থাকা উপকারী অনুজীবদের সংখ্যা বাড়ায় (b) মাটির উর্বর শক্তি বা উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় (c) মাটির অম্ল ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয় (d) নাইট্রোজেন বা ফসফরাসের যৌগ মিশ্রিত জল নদী বা পুকুরের জলে মিশে জল দূষণ ঘটায়।

উত্তর:- মাটিতে থাকা উপকারী অনযুক্তের সংখ্যা বাড়ায়।

(6) যে ফসলটি থেকে চিনে পাওয়া যায় সেটিকে সনাক্ত করো- (a) গম (b) ভুট্টা (c) আখ (d) কফি

উত্তর:- আখ।

(7) মধুতে প্রচুর- (a) গ্লুকোজ (b) ফ্রুক্টোজ (c) গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ (d) ইউরিয়া থাকে।

উত্তর:- গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ।

(8) কোন জৈব সারটি ধান ক্ষেতে ব্যবহার করা হয়- (a) NPK (b) VAM  (c) Azolla-Anabaena (d) কোনোটিই নয়।

উত্তরঃ-

(9) 2, 4- D ব্যবহার করা হয়- (a) সার হিসেবে (b) আগাছা নাশক হিসেবে (c) খাদ্য শস্য সংরক্ষণে (d) কোনোটিই নয়।

উত্তর:- আগাছা নাশক হিসেবে।

(10) চালে কার্বোহাইড্রেট থাকে – (a) 77.9% (b) 78.1%  (c) 79.1% (d) 81.1%

উত্তর:- 79.1%

(1) আমন ধান চাষের জন্য_____ মাটিই উপযুক্ত।

উত্তর:- কাদা বা এটেল।

(2) _____গ্যাস উদ্ভিদ বাতাস থেকে সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না।

উত্তর:- নাইট্রোজেন।

(3) _____ উপস্থিতির জন্য চা পানে শরীরে উদ্দীপনা আসে।

উত্তর:- ক্যাফিনের।

(4) চাল ____ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে।

উত্তর:- 79.1%‌।

(5) আমের ____ অংশটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর:- শাঁস।

(6) রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ থেকে ____ গ্রহণ করে উদ্ভিদের ব্যবহারযোগ্য যৌগে পরিবর্তিত করে।

উত্তর:- নাইট্রোজেন।

(7) ______জাতের পুরুষ মুরগির সঙ্গে ____জাতের একটি স্ত্রীর মুরগির মিলন ঘটিয়ে ব্রয়লার মুরগী তৈরি করা হয়।

উত্তর:- কুর্নিশ, সাদা প্লাইমাউথ।

(8) ডিপ লিটার _____পালনের আধুনিক পদ্ধতি।

উত্তর:- মুরগি।

(9) রাইজোবিয়াম একধরনের _____ ব্যাকটেরিয়া।

উত্তরঃ- মিথোজীবী।

(10) কালো চায়ে প্রচুর ____ অ্যাসিড থাকে।

উত্তরঃ- ফলিক অ্যাসিড।

(1) অজৈব সার মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।

উত্তর:- মিথ্যা।

(2) সবুজ চায়ে ভিটামিন K থাকে।

উত্তর:- সত্য।

(3) অপরিশোধিত ময়লা জল সরাসরি মাছ চাষে ব্যবহার করা হয়।

উত্তর:- মিথ্যা।

(4) পশ্চিমবঙ্গের শীতকালীন ধান হল আউশ।

উত্তর:- মিথ্যা। (আমন ধান)

(5) তুলো হলো তন্ডুল জাতীয় ফসল।

উত্তর:- মিথ্যা। (তন্তু জাতীয়)

(6) ব্রাউন রাইস ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ খাদ্য।

উত্তর:- মিথ্যা।

(1) দেশি আমন ধানের একটি উৎকৃষ্ট জাতের নাম লেখ।

উত্তর:- ভাসামানিক।

(2) দুটি ফসল ধ্বংসকারী প্রাণীর নাম লেখ।

উত্তর:-  ইঁদুর,  পঙ্গপাল।

(3) একটি মাংস উৎপাদনকারী জাতের মুরগির নাম লেখ।

উত্তর:- আসিল।

(4) আমন ধান চাষের জন্য কোন ধরনের মাটি উপযোগী?

উত্তর:- কাদা মাটি বা এঁটেল মাটি।

(5) একটি আগাছানাশক এর নাম লেখ।

উত্তর:- পিক্লোরাম, ড্যালাপোন।

(6) গোল্ডেন রাইসে কোন ভিটামিন বেশি থাকে?

উত্তর:- ভিটামিন A ।

(7) সবুজ চা এর কোন উপাদান রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়?

উত্তর:- পলিফেনল।

(8) সিয়ন কি?

উত্তর:- শাখা কলমের যে উন্নত অংশটি অপর গাছ থেকে কেটে আনা হয় যা জোড় কলমে ব্যবহৃত উদ্ভিদের কাণ্ড যুক্ত অংশ এবং সর্বদা উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত, তাকে সিয়ন বলে।

(9)চায়ে উপস্থিত কোন অ্যালকালয়েড কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উদ্দীপনা যোগায়?

উত্তর:- ক্যাফিন।

(10) মধুতে উপস্থিত যেকোনো দুটি উপাদানের নাম লেখ।

উত্তর:- গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ।

(11) কৃষি বিজ্ঞানের কোন শাখায় ফল আর সবজি চাষের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়?

উত্তর:- উদ্যানবিজ্ঞান (Horticulture)।

(12) কৃত্রিম প্রজননে মাছকে কী ইনজেকশন করা হয়?

উত্তর:- পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস।

(13) জোড় কলমে ব্যবহৃত উন্নত জাতের গাছের শাখাটিকে কী বলে?

উত্তর:- পিয়ন।

(14) পোলট্রি মুরগির দুটি ডিম উৎপাদনকারী জাতের উদাহরণ দাও।

উত্তর:- লেগহর্ন, মিনরকা।

(15) একটি ফসল ধ্বংসকারী পতঙ্গের নাম লেখো।

উত্তরঃ- পঙ্গপাল।

(16) শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে কোন ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে?

উত্তরঃ- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া।

(17) রবি ফসলের চাষ কোন মাসে শুরু হয়?

উত্তরঃ- সাধারণত শীতের শুরুতে অক্টোবর – নভেম্বর মাসে।

(18) উদ্ভিদের দুটি গৌণ খাদ্য উপাদানের নাম লেখো।

উত্তরঃ- আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কোবাল্ট, জিঙ্ক।

(19) একটি মৌচাকে কত ধরনের মৌমাছি পাওয়া যায় ও কী কী ?

উত্তরঃ- একটি মৌচাকে মোট তিন ধরনের মৌমাছি পাওয়া যায়- রানি মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি ও শ্রমিক মৌমাছি।

(20) দুটি বহিরাগত কার্পের নাম লেখো।

উত্তরঃ- সিলভার কার্প, আমেরিকান রুই।

(21) মুরগির ঘরে মেঝেতে যে শয্যা বানানো হয় তাকে কী বলে?

উত্তরঃ- লিটার।

(22) জোড় কলমে কিভাবে দুটি গাছকে বেঁধে কলম করা হয়?

উত্তরঃ- আঁটি থেকে তৈরি করা একটা চারাগাছের (স্টক) সঙ্গে উন্নত জাতের গাছের (সিয়ন) শাখা এক সঙ্গে জোড় বেঁধে কলম করা হয়।

(1) চাষের সময় মাটিতে সার ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর:- একই জমিতে বারবার ফসল ফলানো হলে মাটিতে থাকা উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদনগুলো ফুরিয়ে আসে। যাতে মাটি উদ্ভিদের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি উপাদানগুলো আবার ফিরে পায়। অর্থাৎ মাটিতে থাকা উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পুষিয়ে দিয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধির সহায়ক হয়। তাই চাষের জমিতে সার মেশাতে হয়।

(2) মুরগি পালনে ‘ লিটার ‘ কিভাবে প্রস্তুত করা হয়?

উত্তর:- লিটার তৈরীর ঘর আলো বাতাস যুক্ত হওয়া দরকার ঘরের মেঝেতে লিটার তৈরির আগে চুন আর ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয় এরপর এই পরিষ্কার আর শুকনো মেঝেতে লিটার বিছানো হয়। প্রথমে কাঠের গুঁড়ো ছড়িয়ে তার ওপর খড় বিছানো হয়। এরপর অন্যান্য জিনিসগুলো বিছিয়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পুরু নতুন লিটার তৈরি করা হয়। মুরগিরা থাকতে আরম্ভ করলে ওই লিটারে মুরগির মল ভালোভাবে মিশে গেলে পুরোনো লিটারের উপরে আবার নতুন করে ৫ সেন্টিমিটার পুরু লিটার পাতা হয়। এর ফলে মোটামুটি কুড়ি সেন্টিমিটার পুরু স্থায়ী লিটার তৈরি সম্পূর্ণ হয়।

(3) মুরগি পালনের একটি আধুনিক পদ্ধতি হলো ‘ ডিপ লিটার ‘। ‘ লিটার ‘কি? অথবা, ডিপ লিটার পদ্ধতির ‘ লিটার ‘ কিভাবে তৈরি করা হয়?

উত্তর:- বিচালি (ছোট ছোট করে কাটা খড়) কাঠের গুঁড়ো, শুকনো পাতা, ধান, তুলোবীজ আর যবের তুষ, ভুট্টা, আমের খোসা ইত্যাদি দিয়ে ঘরের মেঝেতে মুরগির জন্য সজ্জা তৈরি করা হয়। এটাই হল লিটার।

ডিপ- লিটার ঘরের দেওয়ালের বাইরে খাবার আর জলের পাত্র এমন ভাবে রাখা হয়, যাতে মুরগি ঘরের ভেতর থেকে শিকের ফাঁক দিয়ে মাথা গলিয়ে খাবার আর জল খেতে পারে। এই ঘরের দেওয়ালে আবার ডিম পাড়ার জন্য বাসা বাঁধানো থাকে। মুরগিরা ওই বাসায় গিয়ে ডিম পাড়ে।

(4) বর্তমানে চাষের ক্ষেত্রে জৈব সার ব্যবহারের কথা বলা হয় এর কারণ কি?

উত্তর:- বর্তমানে চাষের ক্ষেত্রে জৈব সার ব্যবহারের কথা বলা হয় এর কারণ হলো জৈব সার মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির রন্ধ্রযুক্ত হয়। ফলে মাটির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন গ্যাসের আদান-প্রদান ভালো হয়। মাটিতে থাকা উপকারী জীবাণুদের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে এই জৈব সার। তাছাড়া মাটির গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে এই জৈব সার।

(5) শস্য আবর্তন বলতে কী বোঝো?

উত্তর:- শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের ফসল তোলার পরে মাটিতে যথেষ্ট নাইট্রোজেন থাকে। এরপরে ধান, গম, ভুট্টা জাতীয় ফসল চাষ করলে উদ্ভিদরা মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন যৌগ গ্রহণ করতে পারে। তাই এই ধরনের ফসল একবার চাষ করে মাঝে একবার শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের চাষ করলে মাটি আবার তার হারানো নাইট্রোজেন যৌগ ফিরে পায়। একই ফসল বারবার চাষ না করে মাঝে একবার শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের চাষ করার পরেই ফসল চাষ করা ভালো। এই পদ্ধতিকেই বলা হয় শস্য আবর্তন।

(6) খরিফ ফসল বলতে কী বোঝো?

উত্তর:- সাধারণত বর্ষা শুরুতে যে ধরনের ফসলের চাষ শুরু হয় আর বর্ষার শেষে ফসল তোলা হয, তাদের খরিফ ফসল বলে। খরিপ ফসলের ফলন নির্ভর করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর উপর। যেমন ধান, ভুট্টা, তুলো, চিনেবাদাম, সয়াবিন ইত্যাদি হলো খরিপ ফসল উদাহরণ।

(7) খরিফ ফসল ও রবি ফসল এর উদাহরণ উল্লেখ কর।

উত্তর:- খরিপ ফসলের উদাহরণ- ধান, ভুট্টা, তুলো চিনেবাদাম, সয়াবিন।

রবি ফসলের উদাহরণ- গম, বার্লি, ছোলা, মটর, সরষে।

(8) ব্রয়লার কি?

উত্তর:- ব্রয়লার হল এক ধরনের সংকর মুরগি। শুধুমাত্র মাংস পাওয়ার জন্য এদের সৃষ্টি করা হয়েছে। কুর্নিশ জাতের একটা পুরুষ মুরগির সঙ্গে সাদা প্লাইমাউথ জাতের একটা স্ত্রী মুরগির মিলন ঘটিয়ে সংকর জাতের মুরগি তৈরি করা হয়। এটাই ব্রয়লার জাতের মুরগি।

(9) কৃষিকাজের বিভিন্ন ধাপগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো।

উত্তর:- কৃষিকাজের বিভিন্ন ধাপগুলির নাম নিচে দেওয়া হলো।

(i) চাষের জমির মাটি তৈরি করা

(ii) বীজ বপন করা/ বীজ বোনা

(iii) সার প্রয়োগ

(iv) জলসেচ

(v) আগাছা দমন

(vi) ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ থেকে ফসলকে বাঁচানো

(vii) ফসল তোলা

(viii) ফসল সঞ্চয় করে রাখা

(10) বহিরাগত কার্পের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ।

উত্তর:- বহিরাগত কার্পের বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

(i) এগুলি সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

(ii) ভারতীয় জলবায়ুতে মানিয়ে নিয়ে বেড়ে ওঠে আর প্রজননেও সক্ষম হয় এরা। উদাহরণ গ্রাস কার্প, ঘেসো কার্প, কমন কার্প, আমেরিকান রুই, সিলভার কার্প।

(11) মেজর কার্প ও মাইনর কার্পের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ। অথবা, কার্প কি? মেজর কার্প ও মাইনর কার্পের উদাহরণ দাও।

উত্তর:- মিঠে জলে বাস করা যেসব অস্থিযুক্ত মাছের ত্রিকোণাকৃতি মাথায় আঁশ থাকে না, অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র ও চোয়ালে দাঁত অনুপস্থিত আর দেহের ভেতরে পটকা থাকে- তারাই হলো কার্প।

মেজর কার্পমাইনর কার্প
(i) আকারে বড়ো।(i) আকারে ছোট।
(ii) তাড়াতাড়ি বাড়ে। সাধারণত বদ্ধ জলে ডিম পারে না।(ii) তাড়াতাড়ি বাড়ে না। সাধারণত বদ্ধ জলে ডিম পাড়ে।
(iii) ব্যবসায়িক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর চাহিদাও বেশি। যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবোস।(iii) ব্যবসায়িক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন বাটা, পুঁটি।

আরও দেখুনঃ অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ের সমস্ত অধ্যায়ের প্রশ্ম-উত্তর (Poribesh O Bigyan Class 8)।

(12) কৃত্রিমভাবে মাছের ডিম পোনা তৈরির পদ্ধতিটি লেখ।

উত্তর:- কৃত্রিমভাবে মাছের ডিম পোনা তৈরির পদ্ধতি: (i) কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম পোনা তৈরি করলে কোন কোন মাছের ডিম পোনা তৈরি হচ্ছে সেটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর ডিম পোনা সংগ্রহেও অনেক সুবিধা হয়।

(ii) এই পদ্ধতিতে প্রতিটা সুস্থ, সবল স্ত্রী মাছের জন্য দুটো সুস্থ, সবল পুরুষ মাছ নেওয়া হয়। মাছের মাথায় মানুষের মতোই একটা অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থী থাকে- এর নাম পিটুইটারি গ্রন্থি। মাছের পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস নিয়ে ওই বাছাই করা মাছদের ইনজেকশন দেওয়া হয়। আর পুরুষ ও স্ত্রী মাছের কোনটাকে কখন কতবার কতটা ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে তার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।

(iii) পিটুইটারি ইনজেকশন দেওয়ার ফলে স্ত্রী মাছ ডিম আর পুরুষ মাছ শুক্রাণু নিঃসরণ করে। শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর মিলনে ডিম পোনা তৈরি হয়।

(13) একই জমিতে দুবার চাষের মাঝে ডাল জাতীয় উদ্ভিদ চাষ করা হয় কেন?

উত্তর:- শিম্বিগোত্রীয় বা ডাল জাতীয় উদ্ভিদের ফসল তোলার পরে মাটিতে যথেষ্ট নাইট্রোজেন থাকে। এরপরে ধান, গম, ভুট্টা জাতীয় ফসল চাষ করলে উদ্ভিদরা মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন যৌগ গ্রহণ করতে পারে। তাই এই ধরনের ফসল একবার চাষ করে মাঝে একবার শিম্বিগোত্রীয় বা ডাল জাতীয় উদ্ভিদের চাষ করলে মাটি আবার তার হারানো নাইট্রোজেন যৌগ ফিরে পায়।

(14) জৈব সার অজৈব সারের চেয়ে ভালো- বক্তব্যটি যথার্থতা লেখ। অথবা, কৃষি কাজে জৈব সার অজৈব সারের চেয়ে ভালো কেন?

উত্তর:- জৈব সার অজৈব সারের চেয়ে ভালো তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হল।-

(i) জৈব সার মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।

(ii) জৈব সার ব্যবহার করলে মাটি রন্ধ্রযুক্ত হয়। ফলে মাটির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন গ্যাসের আদান-প্রদান ভালো হয়।

(iii) মাটিতে থাকা উপকারী জীবাণুদের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে জৈব সার।

(iv) জৈব সার মাটির গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে।

(15) রাসায়নিক দমন পদ্ধতিতে ফসল ধ্বংসকারী প্রাণীদের মৃত্যু খুব তাড়াতাড়ি হয় তাহলেও এই ধরনের প্রাণীদের মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে জৈবিক দমন পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয় কেন?

উত্তর:- রাসায়নিক দমন পদ্ধতিতে ক্ষতিকারক প্রাণীদের মৃত্যু খুব তাড়াতাড়ি হলেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন-

(i) অনেক সময় ক্ষতিকারক প্রাণী গুলো নির্দিষ্ট একটা রাসায়নিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

(ii) আবার অনেক সময় এর রাসায়নিক পদার্থ গুলো নদীর জলে মিশে দূষণ ছড়ায়।

(iii) রাসায়নিক পদার্থগুলো খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করলে খাদ্যশৃঙ্খলের শেষের দিকের জীবদের ক্ষতি হতে পারে।

(iv) রাসায়নিক পদার্থগুলো ফল বা সবজির মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

(v) রাসায়নিক পদার্থ বলে অনেক সময় উপকারী পতঙ্গ যেমন মৌমাছি, প্রজাপতি এদের মেরে ফেলে।

এইসব কারণেই অনেক সময় ফসল ধ্বংসকারী জীবদের দমনে জৈবিক দমন পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়।

(16) মধুকে কেন পুষ্টিকর খাদ্য বলা হয়?

উত্তর:- মধুতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ ও ফ্রকটোজ থাকে । এছাড়াও এতে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস থাকে। এছাড়াও ভিটামিন A, B- কমপ্লেক্স ও C থাকে।

(17) উদ্যানবিজ্ঞান বা হর্টিকালচার কাকে বলে?

উত্তর:- কৃষি বিজ্ঞানের যে শাখায় ফল আর সবজি চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে উদ্যানবিজ্ঞান বা হর্টিকালচার

(18) মিশ্র মৎস্যচাষ কাকে বলে?

উত্তর:- দেশি মাছেদের মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল – এরা পুকুরের জলের বিভিন্ন স্তরে বাস করে আর সেখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করে। এই তিন ধরনের দেশি মাছ একই পুকুরে চাষ করার পদ্ধতিই হল মিশ্র মৎস্যচাষ।

(18) মৌমাছিদের সমাজবদ্ধ জীব বলা হয় কেন?

উত্তরঃ- মৌমাছিদের মধ্যে বিভিন্ন কাজ করার জন্য নানাধরনের মৌমাছি দেখা যায়- রানি মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি আর শ্রমিক মৌমাছি। মৌমাছিদের সমাজে তিন ধরনের মৌমাছিদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কাজ আছে। রানি মৌমাছির কাজ ডিম পাড়া। পুরুষ মৌমাছির কাজ রানি মৌমাছিদের সঙ্গে প্রজননে অংশ নেওয়া। আর শ্রমিক মৌমাছির কাজ আনেক- মৌচাক তৈরি করা, ফুলের পরাগরেণু আর মকরন্দ সংগ্রহ করা, রানি ও পুরুষ মৌমাছিদের সেবা করা, মধু ও মোম তৈরি করা, সন্তান লালনপালন করা, মৌচাক পাহাড়া দেওয়া। এই সব কারনের জন্যেই মৌমাছিদের সমাজবদ্ধ জীব বলা হয়।

(19) মৌমাছিদের জীবন চক্র চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

উত্তরঃ- মৌমাছিদের জীবন চক্রে মোট চারটি দশা আছে-ডিম, লার্ভা, পিউপা, পূর্ণাঙ্গ। রানি আর পুরুষ মৌমাছির মিলনের পর রানি মৌমাছি ডিম দেয়। তারপর ডিম থেকে লার্ভা আর লার্ভা থেকে হয় পিউপা। আর পিউপারা পরিণত হয় পূর্ণাঙ্গ মৌমাছিতে।

poribesh o bigyan class 8 chapter 8
poribesh o bigyan class 8 chapter 8

স্কলারশিপ সংক্রান্ত এই রকম গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের Facebook Page ফলো করুন এবং Telegram চ্যানেল জয়েন করুন

WhatsApp Channel Follow
Telegram Channel Join Now
Facebook Page Follow

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp Telegram
Home
শিক্ষার খবর
ক্লাস নোটস
মক টেস্ট
Scroll to Top