Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 10: আজকের প্রতিবেদনে আমরা অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের দশম অধ্যায় ‘জীববৈচিত্র্য, পরিবেশের সংকট ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ’ অধ্যায় (Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 10) থেকে সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের দশম অধ্যায় (Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 10) থেকে সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ, অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত তারা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন উত্তরগুলি অনুসরণ করতে পারেন। বিভিন্ন প্রশ্ন বিচিত্রা থেকে এই পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের অষ্টম অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তরগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরিবেশের সংকট ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ (Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 10)
সঠিক উত্তর নির্বাচন করে লেখ
(1) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ____ সালকে ‘ আন্তর্জাতিক বনবর্ষ ‘ বলে ঘোষণা করেছিলেন।
(a) 2010 (b) 2011 (c) 2012 (d) কোনটিই নয়
উঃ – (b) 2011
(2) প্রদত্ত কোনটি শ্বাসমূল যুক্ত উদ্ভিদ-
(a) গেওয়া (b) ক্যাকটাস (c) সেগুন (d) কোনোটিই নয়
উঃ – (a) গেওয়া
(3) গঙ্গার শুশুকের প্রতিটি চোয়ালে দাঁতের সংখ্যা-
(a) 10 – 12 টি (b) 20-24 টি (c) 27-32 টি (d) 35-40 টি
উঃ – (c) 27-32 টি
(4) স্যান বুশম্যান মানুষদের দেখা যায়-
(a) নামিব মরুভূমিতে (b) সাহারা মরুভূমিতে (c) থর মরুভূমিতে (d) কালাহারি মরুভূমিতে।
উঃ – (a) নামিব মরুভূমিতে।
(5) সুন্দরী ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের উদ্ভিদ, সেই অঞ্চলে বেঁচে থাকার জন্য এই উদ্ভিদে-
(a) শ্বাসমূল (b) ঠেসমূল (c) গুচ্ছ মূল (d) a এবং b উভয় দেখা যায়
উঃ – (d) a এবং b উভয় দেখা যায়
(6) সুন্দরবন হলো একটি-
(a) অভয়ারণ্য (b) সংরক্ষিত বন (c) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (d) ন্যাশনাল পার্ক
উঃ – (b) সংরক্ষিত বন
(7) নালিপদ দেখা যায় যে প্রাণীতে সেটি হল-
(a) অক্টোপাস (b) স্কুইড (c) তারামাছ (d) লবস্টার।
উঃ – (c) তারামাছ
(8)
(a) (b) (c)(d)
উঃ –
(9) ২০০ বছরের বেশি সময় বাঁচে এমন মরু উদ্ভিদ হল-
(a) যশুয়া (b) মেশকুইট (c) ক্যাকটাস (d) সাগুয়ারো
উঃ – (d) সাগুয়ারো
(10) সাফাই কর্মীর কাজ করে যে প্রাণীটি সেটি হল-
(a) গন্ডার (b) শুশুক (c) শকুন (d) মেছো বিড়াল
উঃ – (c) শকুন
(11) এস্কিমো শব্দের অর্থ, যারা-
(a) কাঁচা মাংস খায় (b) কাঁচা সবজি খায় (c) রান্না করে খায় (d) সেদ্ধ সবজি খায়
উঃ – (a) কাঁচা মাংস খায়
(12) সমুদ্রের নিচে প্রায় একটা অরণ্য সৃষ্টি করে ফেলে-
(a) সাগর কুসুম (b) জুপ্ল্যাংকটন (c) কেল্প (d) স্কুইড
উঃ – (c) কেল্প
‘জীববৈচিত্র্য, পরিবেশের সংকট ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ’ অধ্যায়ের (Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 10) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(1) IUCN এর সম্পূর্ণ নাম লেখো।
উঃ – International Union for the Conservation of Nature and Natural resources.
(2) ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণের একটি উদাহরণ দাও
উঃ – অভয়ারণ্য।
(3) তারামাছ এর গমন অঙ্গের নাম____।
উঃ – নালিপদ।
(4) ‘এস্কিমো ‘ কথার অর্থ কী?
উঃ – ‘এস্কিমো ‘ কথার অর্থ হলো ‘যারা কাঁচা মাংস খায়’ ।
(5) শ্যাগ্রিন হল প্রকৃতপক্ষে ____এর চামড়া।
উঃ –
(6) মরুভূমিতে অবস্থিত জল সঞ্চয়কারী একটি গাছের নাম লেখ।
উঃ – সেগুয়ারো গাছ। প্রায় ছয় থেকে আট টন জল শরীরের সঞ্চয় করে রাখতে পারে।
(7) পশ্চিমবঙ্গের গন্ডার সংরক্ষণ হয় এমন দুটি ন্যাশনাল পার্কের নাম লেখ।
উঃ – জলদাপাড়া ও গরুমারা।
(8) সাহারা মরুভূমির আদিবাসীদের বলা হয়____।
উঃ – তুয়ারেগ ।
(9) আমেরিকার মরু অঞ্চলে পাথরের তৈরি বাড়ি গুলিকে কি বলে?
উঃ – আমেরিকার মরু অঞ্চলে পাথরের তৈরি বাড়িগুলিকে পুয়েব্লো (Pueblo) বলা হয়।
(10) পশ্চিমবঙ্গের একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের নাম লেখ।
উঃ – সুন্দরবন।
(11) আদর্শ বনের উপরের স্তরকে বলা হয়____।
উঃ – ছাদ।
(12) মেরু অঞ্চলে দেখা যায় এমন একটি জীব হলো____।
উঃ – মেরু ভালুক
আরও দেখুনঃ আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ-অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান | Poribesh Bigyan Class 8 Chapter 11
নিচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(1) উত্তরবঙ্গের বনভূমিতে থাকা এক শৃঙ্গ গন্ডারের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে উঠেছে কেন?
উঃ – গন্ডারের বসবাস উপযোগী জঙ্গল ও জলার তৃণভূমি আয়তনে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসতে থাকায় ও মানুষের বসতি বেড়ে উঠতে থাকায় উত্তরবঙ্গের বনভূমিতে থাকা একশৃঙ্গ গন্ডারের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
(2) কি করে বন বাঁচানো সম্ভব?
উঃ – (১) বনাঞ্চলে গাছ কাটা বন্ধ করা।
(২) গাছ পোঁতা ও নতুন নতুন বনাঞ্চল তৈরি করা।
(৩) বনে আগুন লাগার সম্ভাবনা কমানো ও বনাঞ্চলে পশুচরণ নিয়ন্ত্রণ করা।
(৪) বনের পরিণত গাছ কাটা এবং সেই জায়গায় ওই একই প্রজাতির নতুন গাছে চারা লাগানো।
(৫) বনের গাছে কোন রোগের আক্রমণ ঘটলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(3) সমুদ্র দূষণ সৃষ্টির দুটো কারণ উল্লেখ কর।
উঃ – রাসায়নিক সার ও জৈব বর্জ্য যুক্ত ময়লা। সমুদ্রের জলে তেল ও প্লাস্টিক নিক্ষেপ।
(4) মরুজ উদ্ভিদের বাষ্পমোচন রোধের জন্য যেকোনো পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
উঃ – মরুভূমির উদ্ভিদ (মরুজ উদ্ভিদ) বাষ্পমোচন কমানোর জন্য কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এর মধ্যে পাঁচটি হলো-
1. পাতা ছোট, কাঁটাযুক্ত বা পাতাহীন:- এতে পাতার পৃষ্ঠতল কমে যায়, ফলে জলীয় বাষ্পমোচন কম হয়।
2. পুরু মোমের আবরণ যুক্ত কিউটিকল:- পাতার বাইরের দিকে পুরু মোমের স্তর থাকে, যা জল বের হওয়া রোধ করে।
3. গভীর মূল ব্যবস্থা:- অনেক নিচ থেকে জল শোষণ করতে পারে।
4. পাতা কাঁটার মতো হয়ে যাওয়া:- এতে জলীয়বাষ্প বের হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
5. রসপূর্ণ কাণ্ড:- কাণ্ডে জল সঞ্চিত থাকে, ফলে শুষ্ক অবস্থায়ও উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে।
(5) বনের আগুন পরিবেশে কী কী অসুবিধার সৃষ্টি করে?
উঃ – বনের আগুন পরিবেশে যেসব অসুবিধা সৃষ্টি করে তা নিচে দেওয়া হল।
- বন ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। বনে আগুন লেগে বন নষ্ট হলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড এর ঘনত্ব বাড়তে থাকে আর অক্সিজেনের ঘনত্ব কমতে থাকে। ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
- বনের মাটি আর গাছের পাতা বৃষ্টিপাতের প্রায় ৫০ শতাংশ শুষে নেয়। বনে আগুন লাগার পর মাটি ও গাছের পাতার সেই ক্ষমতা আর থাকে না। ফলে বন্যার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
- বড় গাছগুলো পুড়ে যাওয়ার ফলে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় মাটির ক্ষয় বেড়ে যায়। দাবানলের পর প্রথম বৃষ্টিপাতের সময় জলে ছাই মিলে যাওয়ায় জল দূষণ হতে পারে।
- বনে আগুন লাগলে বহু প্রাণীর তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয়। আর বাকিরা আশ্রয় হারিয়ে ফেলে।
(6) মেরু ভাল্লুকেরা কীভাবে সুমেরুতে বেঁচে থাকে তা যেকোনো দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখের মাধ্যমে বুঝিয়ে দাও।
উঃ – ভাল্লুকের লোম: ভাল্লুকের লোমের তন্তু গুলো খুব স্বচ্ছ যা সূর্যের আলো শোষণ করে তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে এদের শরীর গরম থাকে।
ভাল্লুকের চামড়া: প্রবল ঠান্ডা কে আটকানোর জন্য এদের চামড়ার ওপর ঘন লোমের দ্রুতি আস্তরণ থাকে। আর শরীরের একদম নিচের চামড়া কালো রঙের হয়। ফলে সূর্যের তাপ যতটা সম্ভব ধরে রাখা সম্ভব হয়।
চামড়ার নিচে ফ্যাটের আস্তরণ: প্রতিকূল পরিবেশের টিকে থাকার জন্য মেরু ভাল্লুকের আরেকটি হাতিয়ার হল ফ্যাট। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে এদের চামড়ার নিচে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার পুরো ফ্যাট থাকে।
(7) এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো? এর একটি উদাহরণ দাও।
উঃ – যেসব জীবকে কোনোভাবেই তার স্বাভাবিক বাসস্থানে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান থেকে দূরে অন্য কোনো স্থানে রেখে বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এই ধরনের সংরক্ষণ কে এক্স সিটু (Ex-Situ) সংরক্ষণ বলা হয়। যেমন চিড়িয়াখানা বা বোটানিক্যাল গার্ডেন।
(8) উত্তরবঙ্গের বনভূমির সংকটের দুটি কারণ লেখ। এজেন্ডা-21 কবে গৃহীত হয়েছিল?
উঃ – উত্তরবঙ্গের বনভূমির সংকটের দুটি কারণ-
- উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে চা বাগান তৈরির জন্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চল নষ্ট করা হয়েছে।
- উত্তরবঙ্গে রেললাইন বসানো ও জনবসতি গড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের বনভূমির আরেক সংকট।
এজেন্ডা-21 গৃহীত হয়েছিল 1992 সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে।
(9) উট কিভাবে মরু পরিবেশে বেঁচে থাকে? (যেকোনো তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ)
উঃ – কোনো একটি বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চলের জীবের উপস্থিতি ওই অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। উট যেভাবে মরু পরিবেশে বেঁচে থাকে তা নিচে দেওয়া হল।
- উটের পিঠে একটা কুঁজ থাকে। আর উট এই কুঁজে চর্বি সঞ্চয় করে রাখে । এই চর্বি থেকে উট শক্তি জোগাড় করে। যার ফলে উট সাতদিন পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে পারে।
- উটের হাঁটুর কাছে আর পেটের নিচে মোটা চামড়ার আস্তরণ আছে, যা বালিতে বসতে সাহায্য করে।
- মরুভূমিতে মাঝে মাঝে মরুঝড় হয়। বালিতে বালিতে চারিদিক অন্ধকার। উট তার নাকের ফুটো প্রয়োজনে বন্ধ করতে ও খুলতে পারে।
- উটরা প্রায় ২৫ গ্যালনের মত জল একসঙ্গে পান করতে পারে।
- উটের দেহে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। যাতে শরীর থেকে বেশি জল বেরিয়ে না যায়, তাই এদের মূত্র ঘন হয়।
(10) দুটি সামুদ্রিক অমেরুদন্ডী প্রাণীর নাম লেখ।
উঃ – জেলি ফিস, সাগরকুসুম। তাছাড়াও চিংড়ি, কাঁকড়া, স্কুইড, অক্টোপাস, তারা মাছ, সমুদ্র শশা ইত্যাদি।
(11) মেরু অঞ্চলের মানুষদের কি বলে? এরা যেখানে বাস করে সেই ঘরের নাম কি?
উঃ – মেরু অঞ্চলের মানুষদের ‘এক্সিমো’ বলে। এরা যেখানে বাস করে সেই ঘরের নাম ‘ইগলু’।
(12) বিশ্বের প্রথম শুশুক সংরক্ষণ স্যাংচুয়ারির নাম লেখো। শুশুকের কয়টি দাঁত থাকে?
উঃ – বিশ্বের প্রথম শুশুক সংরক্ষণ স্যাংচুয়ারির নাম হল বিক্রমশীলা গ্যাঞ্জেটিক ডলফিন স্যাংচুয়ারি (Vikramshila Gangetic Dolphin Sanctuary)। শুশুকের প্রতি চোয়ালে ২৭ থেকে ৩২ টা দাঁত থাকে ।
(13) ইন-সিটু (In-Situ) সংরক্ষণ বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।
উঃ – বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে যখন তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে (সাধারণ বাস্তুতন্ত্র বা মানুষের তৈরি বাস্তুতন্ত্র) সংরক্ষণ করা হয় তখন ওই জীবের স্বাভাবিক বাসস্থান বা মানুষের তৈরি বনকে সংরক্ষিত বন বলে ঘোষণা করা হয়। এই ধরনের সংরক্ষণকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়। যেমন অভয়ারণ্য, ন্যাশনাল পার্ক।
(14) কালাহারি মরুভূমিতে বসবাসকারী মানুষদের কি বলে? সাহারা মরুভূমির আদিবাসীরা কিভাবে বসবাস করে? উট কত প্রকার হয় এবং কি কি?
উঃ – কালাহারি মরুভূমিতে বসবাসকারী মানুষদের স্যান বুশম্যান (San Bushman) বলে।
সাহারা মরুভূমির আদিবাসী তুয়ারেগরা ঘাস দিয়ে ঝুপড়ি তৈরি করে থাকে। মাটির নিচেও এদের ঘরবাড়ি হয়। মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে সুড়ঙ্গপথে যাতায়াত করে।
উট সাধারণত দু প্রকারের হয়- এক কুঁজ-বিশিষ্ট (অ্যারাবিয়ান) আর দুই কুঁজ-বিশিষ্ট (ব্যাক্টিয়ান)।
(15) মরুদ্যান বলতে কী বোঝো? এশিয়া মহাদেশের একটি শীতল মরুভূমির নাম লেখো।
উঃ – মরুভূমির মধ্যে যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জল পাওয়া যায় এবং সেই জলকে কেন্দ্র করে গাছপালা জন্মে, মানুষ ও প্রাণীর বসবাস সম্ভব হয়—তাকে মরুদ্যান বলে।
এশিয়া মহাদেশের একটি শীতল মরুভূমি: গোবি মরুভূমি।
(16) মরুভূমিতে বসবাসকারী জীবেরা কিভাবে নিজেদের অত্যধিক তাপ থেকে রক্ষা করে? কমপক্ষে ছয়টি কৌশল উল্লেখ কর।
উঃ – কোনো একটি বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলের জীবের উপস্থিতি ওই অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। যে সকল প্রাণীরা মরুভূমিতে থাকে তারা কীভাবে তাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে তা নিচে দেওয়া হল।
1. কোনো কোনো প্রাণী কেবল রাতের বেলায় বের হয়।
2. কোনো কোনো প্রাণী খুব ভোরে বা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য সক্রিয় হয়।
কোনো কোনো প্রাণী গরমকালে শুষ্ক জায়গা থেকে উঁচু ঠাণ্ডা জায়গায় চলে যায়। আবার শীতকালে চলে আসে।
4. তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে কোনো কোনো প্রাণী এস্টিভেশন বা গরম ঘুমে চলে যায়। এসময় তাদের শ্বাসক্রিয়া, হৃদকম্পনের হার কমে যায়।
৪. কোনো কোনো প্রাণীর ত্বক অপেক্ষাকৃত পুরু হয় যাতে জল বেরিয়ে না যেতে পারে।
6. কোনো কোনো প্রাণীর পা খুব লম্বা হয়, যাতে দ্রুত দৌড়োতে ও অনেকটা উঁচু পর্যন্ত লাফাতে সুবিধা হয়। এতে তপ্ত বালির সরাসরি সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কমে।
(17) ম্যানগ্রোভ বনভূমি কাকে বলে? এই বনভূমি কোথায় দেখা যায়?
উঃ – ম্যানগ্রোভ বনভূমি হলো এমন এক বিশেষ ধরনের বনভূমি যা সমুদ্রের জোয়ার–ভাটার প্রভাবে উপকূলবর্তী জলা ও নদীমুখ অঞ্চলে গড়ে ওঠে। এখানে জন্মানো গাছগুলির শ্বাসমূল (pneumatophores) থাকে, যা কাদামাটির ভেতরে অক্সিজেনের অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। এই বনভূমি নোনা জলে জন্মাতে সক্ষম এবং জোয়ার-ভাটার সাথে মানিয়ে নিতে পারে।
কোথায় দেখা যায়:
ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে (পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বিস্তৃত) সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি দেখা যায়।
এছাড়া ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং গুজরাটের কিছু উপকূল অঞ্চলেও ম্যানগ্রোভ বনভূমি আছে।
সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ নানা প্রাণী বাস করে।
(18) শুশুক কেমন দেখতে? এরা কোথায় বাস করে?
উঃ – সূচকের দেহ ধূসর বাদামী বা কুচকুচে কালো রঙের। দেহের মাঝখানটা মোটা, দুই প্রান্ত সরু আর সূচালো। এদের গায়ে লোম থাকে না। মুখের সামনে ঠোঁট দুটো অনেকটা চঞ্চুর মতো প্রলম্বিত। এদের প্রতিটি চোয়ালে 27-32 টা ছোটো দাঁত থাকে। এদের নাকের ফুটো লম্বাটে, থাকে চঞ্চুর গোড়ায়। এদের লেজটা ওপরে-নিচে চ্যাপ্টা।
মিষ্টি জলের এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাস গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী আর তাদের উপনদীতে।
(19) স্যান বুশম্যান কাদের বলে? এদের একটি আচরণ উল্লেখ কর।
উঃ – কালাহারি মরুভূমিতে বসবাসকারী মানুষদের স্যান বুশম্যান বলে। এরা ভিজে বালির মধ্যে গর্ত করে নলাকার ঘাস ঢুকিয়ে জল টেনে খায়। অস্ট্রিচের ডিমের খোলককে জল খাবার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
(20) বন কেটে ফেলায় পরিবেশের কি ক্ষতি হয় সংক্ষেপে লেখ।
উঃ – মানুষ তার নানা প্রয়োজনে কোনো জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছপালা কেটেই চলেছে। সারা পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে মানুষ প্রায় 1.5 কেটে ধ্বংস করে। বন কেটে ফেলায় পরিবেশের যে সমস্ত ক্ষতি হয় তা সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হল।
- মাটির খুব গভীরে বা কম গভীরে যাওয়া গাছ যদি হঠাৎ উপরে ফেলা হয়, তবে যে মাটির কণাগুলোকে গাছের মূল আঁকড়ে ধরে থাকে, তারা আলাদা হয়ে যায়। তারপর জল শুকিয়ে গেলে ওই মাটির ঝুরঝুর হয়। বৃষ্টির ধারায় সেই মাটি সহজে ধুয়ে চলে যায় এবং নিচের পাথর বেরিয়ে যায়। ফলে সেখানে তখন আর কোন উদ্ভিদ জন্মাতে পারেনা। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এই ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটতে থাকলে মরুভূমি পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে।
- বন কেটে ফেললে ওই অঞ্চলের মাটি আর বৃষ্টির জল ধরে রাখতে পারেনা ফলে মাটির নিচের জলের স্তর কমতে থাকে।
- বন ক্রমাগত বাড়তে থাকলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণে বেশি সক্ষম গাছের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বেড়ে গেলে পরিবেশ গরম হয়ে যায় এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটে। অতিরিক্ত গরমে জলচক্র ব্যাহত হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে থাকে বা বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হলে খরার বা বন্যার সম্ভাবনা বাড়ে।
- বিভিন্ন প্রাণী বিশেষ ধরনের গাছ বা বনাঞ্চলকে তাদের বাসস্থানের জন্য ব্যবহার করে। এধরনের বনাঞ্চল ধ্বংস হলে ওইসব প্রজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা বাড়ে এবং জীববৈচিত্র্য হাস পায়।
(21) একটি সামুদ্রিক প্রাণীর নাম লেখ যার বাহুর সংখ্যা ৮। দংশক কোশযুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রাণীর নাম লেখ।
উঃ – অক্টোপাস (Octopus)। দংশক কোশযুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রাণীর নাম হল সাগরকুসুম (Sea anemone)।
(22) ম্যানগ্রোভ অরণ্যের দুটি সমস্যা লেখ।
(23) মরুভূমির গিরগিটির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
(24) পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী কে ও তার সংখ্যা হ্রাসের দুটি কারণ লেখ।
(25) রেড ডাটা বুক কোন সংস্থার ও এখানে মোট কতগুলি ক্যাটাগরি আছে?
উঃ – IUCN (International Union for the Conservation of Nature and Natural resources) নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিপন্ন জীবদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকার নাম হলো Red Data Book । এখানে মোট আটটি ক্যাটাগরি আছে।
(26) সমুদ্র দূষণের কারণ গুলি লেখ। সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী চারটি প্রাণীর নাম লেখ।
উঃ – সমুদ্র দূষণের বিভিন্ন কারণগুলি নিচে দেওয়া হল-
(1) রাসায়নিক সার ও জৈব বর্জ্য যুক্ত ময়লা জল সমুদ্রের জলে মিশে সমুদ্রের দূষণ ঘটায়।
(2) তেল বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এমন জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটলে বা ডুবে গেলে সমুদ্রের জলে তেল মিশে যায়। অপরিশোধিত তেলে থাকে নানা বিষাক্ত পদার্থ। যার ফলে সমুদ্র দূষণ ঘটে।
(3) সমুদ্রে প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস ফেলা হলে সেগুলো ভাসতে থাকে এবং সমুদ্র দূষণ হয়।
(4) মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে পরিবেশের কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন বাড়ছে। সমুদ্র এই কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বিরাট অংশ শোষণ করে। ফলে পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের জলের অম্লত্ব বাড়ে এবং সমুদ্র দূষণ ঘটে।
সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী চারটি প্রাণীর নাম হল অ্যাংলার ফিশ (Angler Fish), দৈত্য স্কুইড (Giant Squid), গভীর সমুদ্রের জেলিফিশ (Deep Sea Jellyfish), ফ্যাংটুথ মাছ (Fangtooth Fish)
(27) অ্যালগাল ব্লুম কাকে বলে? এর ক্ষতিকারক প্রভাব কি?
উঃ – রাসায়নিক সার আর জৈব বর্জ্য যুক্ত ময়লা জলে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান সমুদ্রের জলে মেশার ফলে ফাইটোপ্ল্যাংকটনরা সংখ্যায় খুব বেড়ে যায়। সমুদ্রের জল ঢেকে দেয় এরা। একে বলা হয় অ্যালগাল ব্লুম। এদের দেহ থেকে বেরোনো অধিবিষ অন্যান্য সামুদ্রিক জীবের মৃত্যু ঘটাতে পারে। জলের স্বচ্ছতা কমে গিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হওয়ার ফলে সালোকসংশ্লেষ বাধা পায়। বিপুল পরিমাণ শৈবালরা শ্বাসকার্য চালানোর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের অক্সিজেনের অভাব ঘটে। যার ফলে ওইসব প্রাণীদের মৃত্যু ঘটতে পারে।
(28) হাতি ও মানুষের সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ গুলি লেখ।
উঃ – বন কেটে হাতির যাতায়াতের পথে রেললাইন বসানোই ও জনবসতি গড়ে ওঠায় উত্তরবঙ্গের বনভূমির আরেক সংকট হলো মানুষ হাতি সংঘাত। উত্তরবঙ্গে ইদানিং ট্রেনে কাটা পড়ে অনেক হাতি মারা যাচ্ছে। বর্ষার শুরুতে ভুট্টা ফেলার সময় আর শীতের শুরুতে ধান পাড়তে শুরু করলে হাতির চলাচল অনেকটা বেড়ে যায়। হাতির দল তখন নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত শুরু হয়ে যায়।
(29) এম্পারার পেঙ্গুইনের জীবন ইতিহাস বিস্ময়কর কেন?
উঃ – অ্যান্টার্কটিকায় যে সকল পেঙ্গুইন প্রজাতি পাওয়া যায় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এম্পারার পেঙ্গুইন।
পেঙ্গুইনদের মধ্যে বৃহত্তম হলো এম্পারার পেঙ্গুইন। এরা বরফ ও জল উভয় জায়গাতেই থাকে। শীতকালে অ্যান্টার্কটিকায় যখন প্রবল হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা, ঘন অন্ধকার নেমে আসে, তখনই এম্পারার পেঙ্গুইন বংশবিস্তার করে। এরা একটিমাত্র ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পরে মেয়ে পেঙ্গুইন খাবার খুঁজতে দূরের সমুদ্রে চলে যায়। পুরুষ এম্পারার পেঙ্গুইন ওই ডিমটিতে তা দেয়। পুরুষ পেঙ্গুইন তার দু-পায়ের সঙ্গে একটি চামড়ার ভাঁজের নীচে ডিমটিকে ধরে রাখে। ডিমে তা দেওয়ার সময় হলো প্রায় দু মাস। এসময় পুরুষ এম্পারার পেঙ্গুইনরা অনেকে একসঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকে। দীর্ঘ সময় কিছু না খাওয়ার ফলে এদের ওজন খুব কমে যায়। কিন্তু ডিম ফুটে বেরোনো বাচ্চাকে পুরুষরাই প্রথম খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয়। তারপর মা ও বাবা দুজনেই বাচ্চাকে বড়ো করার দায়িত্ব নেয়। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় বরফখণ্ডে বাচ্চা পাখিরা চড়ে বসে এবং জীবনে প্রথমবার জলের সংস্পর্শে আসে। তখন সমুদ্রের জলে থাকা বিভিন্ন প্রাণীদের ধরে খেতে শেখে।

Latest Posts:
- [PDF] HS 4th Semester Philosophy Question Paper 2026 | উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন প্রশ্নপত্র ২০২৬
- উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ রসায়ন প্রশ্নপত্র PDF | HS 4th Semester Chemistry Question Paper 2026 Download
- দেখুন উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ ভূগোল প্রশ্নপত্র PDF | HS 4th Semester Geography Question Paper 2026 Download
- Higher Secondary 4th Semester Question Paper 2026 | উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টারের সমস্ত বিষয়ের প্রশ্নপত্র PDF
- উচ্চমাধ্যমিক 4th Semester ইতিহাস প্রশ্নপত্র 2026 | HS History Question Paper 2026 PDF Download





স্যার বলছি সব প্রশ্নের উত্তর গুলো প্রায় হুবহু কপি করা ছায়া প্রকাশনী থেকে। কপি না করে নিজেদের
Creativity দেখালে আশা করি ভালো হয় ।